পোশাকে হোক আরাম, গরমে পরুন আরামদায়ক পোশাক।

আবহাওয়ার পালা বদলে বইছে তপ্ত গরম হাওয়া। তাপমাত্রা যেন হু হু করে বেড়েই চলছে। চারদিকে ছড়াচ্ছে উষ্ণতা। আর এ সময়টাতে খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছুতেই সাবধানতা বজায় রাখতে হবে। ষড়ঋতুর আমাদের এই দেশ। ছয়টি ঋতুই পরিবর্তিত হয় তাদের আপন মহিমায়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রকৃতিতে খেলা করছে বৈশাখী উত্তাপ। যেন কালবৈশাখী ঝড়ের মতোই রোদের ঘাম ঝরা তেজ। যে কারণে আমাদের অনেকটা বাধ্য হয়েই পরিবর্তিন করতে হয় দৈনন্দিন চলাফেরা এবং জীবন যাপন।

আর পরিবর্তনের এ তালিকার অন্যতম হচ্ছে পোশাক । অর্থাৎ সময়ের সাথে মিল রেখে আরামদায়ক পোশাকের দিকে নজর দিতে হয় আমাদের। কারণ আমাদের পোশাক যদি আরামদায়ক না হয় তাহলে তাহলে চলাফেরায় খুবই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক না পরলে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়াটাই স্বাভাবিক।  আর কারনেই ঋতুভিত্তিক পোশাক সকলের প্রথম পছন্দ।

আরামদায়ক পোশাকই হতে হবে গরমে জন্য । যাতে করে সহজে ঘাম শুষে নেয়, বাতাস চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে। খুব ভারী পোশাক হওয়া যাবে না এবং তাপ থেকে সুরক্ষা দেয়  এমন ধরনের পোশাক নির্বাচন করা জরুরী।

এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ‘বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়নশিল্প বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহমিনা রহমান বলেন, “এই সময়ে সুতি, লিনেন, সিল্ক, পাতলা খাদি ইত্যাদির পোশাক বেশ আরামদায়ক। এবং এই পোশাক গুলোর যত্ন নেওয়াও বেশ সহজ।”

চলুন জেনে নেওয়া যাক গরমে কি ধরনের পোষাক নির্বাচন করবেন:

  • সুতি কাপড়ের পোশাক রাখুন পছন্দের প্রথমে-

গরমের সময় পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে সুতির কাপড়ের পোশাক থাকতে হবে পছন্দের তালিকায় প্রথম। সুতি কাপড়ের পানি শোষণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় এটি গরমে ব্যবহার করলে। তাছাড়া সুতি কাপড়ে তৈরি পোশাক আরামদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী। অন্যদিকে এ ধরনের পোশাকের যত্ন নেওয়া তুলনামূলক সহজ। সুতি কাপড় বাতাস চলাচলে সহায়তা করায় ঘাম শোষণ করে বলে এই ধরনের পোশাক গরমে ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক।

যাঁরা সব সময়ই সুতির পোশাকই পছন্দ করের তাঁদের বিষয় আলাদা। কিন্তু যাঁরা সুতির পোশাক ছাড়াও অন্যান্য পোশাক বেশি পরেন, তাঁদের বলছি এই তিক্ত গরমে সুতির পোশাক পরুন। এটি আপনার ত্বকের জন্যও উপকারি। আর সুতির রয়েছে নানা রকম ফ্যাশানেবল পোশাক। যা পরে আপনিও ট্রেন্ডসেটর হয়ে উঠতে পারেন। তবে স্টাইলিং আপনি আপনার নিজের পছন্দকেই প্রাধান্য দিবেন।  কি ভাবছেন? সত্যিই গরমের পোশাক হিসেবে ভালো ও আরামদায়কই হবে সুতি কাপড়ের পোশাক।

  • লিনেন কাপড়ের পোশাক বেশ আরামদায়ক-

গরমের সময় পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে সুতির কাপড়ের পাশাপাশি লিলেন কাপড়ের তৈরি পোশাক পছন্দের তালিকায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। সবচেয়ে বেশি বাতাস চলাচলে সক্ষম এই তন্তু। লিলেন একটি হাল্কা ওজনের ফ্যাব্রিক। বলা যায় এটা পরিধানে একটা বেবি সফট ফিলিং আসবে। লিলেন ক্লথ লাইনেন আর কটনের মিশ্রণে তৈরি হয় বলে এটি আরামদায়ক। কটন মিক্স হওয়াতে এটা হাল্কা আর নরম। আর যেহেতু এর টেক্সচার খুবই হাল্কা থাকে, তাই অনেক গরমে লিলেন তাপ শুষে না নিয়ে বরং প্রতিফলিত করে বলে গরম কম লাগে।

  • গরমে “খাদি” হতে পারে স্বস্তির কারন- 

আমরা খাদি  খাদি শুধু যে ভারতের নিজস্ব উপাদান, তার জন্য এর গুরুত্ব বেশি, তা নয়। খাদি মেটারিয়াল হিসেবেও খুব ভাল। কটনের মতোই আরামদায়ক হল খাদি। খাদি খুব সহজেই হ্যান্ডেল করা যায়। আর খাদি খুব ভাল ভাবে হাওয়া সরবরাহ করে শরীরে। খাদি খুব সহজে ঘাম শুষেও নেয়। ফলে শরীরে ঘাম বসে না। আর খাদি এখন ফ্যাশনে ইন বলাই যায়। তাই গরমে খাদি খুব ভাল।

  • পরার চেষ্টা করুন হালকা রঙের বা লাইট কালারের পোশাক-

অনেকেই আছেন যাঁরা কালো রঙের পোশাক পরতে ভালবাসেন। আবার অনেকের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে গাঢ় রঙের পোশাক । এই কাঠ পোড়া গরমে সেইসব পোশাককে কিছুদিন ছুটি দিয়ে দিন। কারন কালো সবচেয়ে বেশি সূর্যের আলো বা তাপ শুষে নেয়। তাই কালো এখন আলমারিতেই বন্ধি রেখে আলমারিতে থাকা হালকা রঙের পোশাকগুলি বের করে ফেলুন। আর এই গরমে স্বস্তি পাওয়ার জন্য হালকা রঙের পোশাক পরুন। খুব ভাল হবে যদি আপনি সাদা রঙের পোশাক পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন। এই ধরনের হালকা রং শরীরের পাশাপাশি চোখের জন্যও আরামদায়ক। হালকা রঙের বলতে, যেমন সাদা, হালকা সবুজ, হালকা বেগুনি, হলদে রঙের নানান শেডের পোশাক।

  • ঢিলেঢালা পোশাকই হোক এই মৌসুমে – 

শরীরের সাথে আঁটসাঁট ভাবে লেগে থাকা পোশাক বর্জন করুন গরমের এই মৌসুমে। আঁটসাঁট পোশাক  আপনার ত্বকে অস্বস্তি হবে। এবং গরমে বিভিন্ন স্কিন ব়্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। গরমও বেশি লাগার সাথে ঘামও হবে। তাই এই গরমে টাইট পোশাক পরিহার করুন। যত ঢিলেঢালা পোশাক পারবেন, ততই ভাল।

  • জিন্সকে না পরতে পারলেই ভালো-

শীতে জিন্স পরে আরাম পেলেও গরমে পাবেন অস্বস্তি। তাই জিন্সকে বিরতি দিয়ে অন্যান্য় ট্রাউজার পরতে পারেন। ট্রাউজার সুতির হলে খুবই ভালো। এতে ঘাম কম হবে।

  • ট্রাই করতে পারেন অফ-শোল্ডার-

আর অফ-শোল্ডার পোশাক পরার উপযুক্ত সময় মূলত গরম কালেই । তাই এই গরমে অফ শোল্ডার পোশাক পরার চেষ্টা করুন।

  • কম কাজ করা ড্রেস পরিহার করুন-

এই গরমে এমন সাজ করবেন না যাতে আপনি অস্বস্তিবোধ করেন। হালকা গয়না পরুন। হালকা মেকআপ করেও ভালো সাজ আনতে পারবেন। আপনাকে দেখতেও বেশ সুন্দরই লাগবে। তবে রাতে কোন অনুষ্ঠান থাকলে তখন কিছুটা ভারী পোশাক বা গাড় রঙের পোশাক এবং কিছুটা ভারী মেকাপও নিতে পারেন।

  • পেশা অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করুন

পেশা অনুযায়ী পোশাক নির্বাচনের জন্য পোশাকের রং, তন্তু, ধরন ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

  • কর্মজীবী নারীরা লাইট কালার সুতি শাড়ি, পাতলা জমিনের শাড়ি, সুতির থ্রি-পিস বা সালোয়ার কামিজ পরতে পারেন।
  • ছাত্রীরা যেহেতু ফতুয়া, লং কামিজ, স্কার্ট ইত্যাদি পরতেই বেশি পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে অ্যাপলিক, টাইডাই, প্রিন্ট ইত্যাদি কাপড় বেশ উপযোগী এই সময়ের জন্য। এছাড়াও সুতি বা লিনেনের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গে বেণি বা পনিটেইল করলে দেখতে ভালো দেখাবে।
  • আর ছেলেরা শর্ট-শার্ট, শর্ট-পাঞ্জাবি, সুতির ফতুয়া, পাতলা টি-শার্ট পরতে পারেন। এতে গরম কিছুটা কম লাগে আর স্বস্তিও পাবে। আর অবশ্যই সাদা রঙের বা লাইট কালারের পরার চেষ্টা করতে হবে।

তবে সব সময়ে চেষ্টা থাকা উচিৎ আবহাওয়া বুঝে পোশাক নির্বাচন করা। এতে করে যে কোন মৌসুমে পোশাকে মিলবে স্বস্তি। তাই এমন পোশাক পরুন যা আপনাকে আরাম দেবে, দেখতেও সুন্দর লাগবে। পোশাক পরার আগে দেখে নিন সেই পোশাক কি মেটারিয়াল দিয়ে তৈরি, আর পোশাকের রঙ কি। এই দুটির উপরেই নির্ভর করে আপনার গরমের আরাম, স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য।

Recent Articles

spot_img

Related Stories

Leave A Reply

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay on op - Ge the daily news in your inbox